কাঁচরাপাড়ার (Kanchrapara) বহুচর্চিত বেসরকারি স্কুলকে ঘিরে রহস্য যেন ক্রমশ আরও গভীর হচ্ছে। প্রথম দফার অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের পর পাঁচ দিন কাটতে না কাটতেই ফের একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হানা দিয়ে আরও ৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার করল পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, দুই দফার অভিযানে সব মিলিয়ে ওই স্কুল থেকে প্রায় ১ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
গত ১০ জুন রাতে বীজপুর থানার (Bizpur Police Station) পুলিশ প্রথমবার ওই ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের পর স্কুলের অ্যাকাউন্ট্যান্ট অভীক নাগ এবং জুনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্ট সায়ন পালকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতেই তদন্তকারীরা নতুন সূত্র পান বলে জানা গিয়েছে।এরপর ১৫ জুন গভীর রাতে ধৃত দু’জনকে সঙ্গে নিয়ে ফের স্কুলে অভিযান চালানো হয়। সেই দ্বিতীয় দফার তল্লাশিতেই আরও ৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়। তদন্তকারীদের অনুমান, প্রতিষ্ঠানের ভিতরে আরও কোথাও নগদ অর্থ লুকিয়ে রাখা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই কারণে ধৃতদের জেরা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও চরমে উঠেছে। বীজপুরের বর্তমান বিধায়ক সুদীপ্ত দাস দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল অর্থ প্রাক্তন বিধায়ক সুবোধ অধিকারী এবং কাঁচরাপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান কমল অধিকারীর (কমল অধিকারী) (Kamal Adhikari)-র ‘কালো টাকা’ (Black Money) হতে পারে। তাঁর অভিযোগ, শুধু একটি স্কুল নয়, আরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত রাখা হয়েছে। সুদীপ্ত দাস আরও দাবি করেন, ২০২২ সালে (সিবিআই তদন্ত) (CBI Investigation)-এর পর থেকেই নিরাপদ জায়গায় অর্থ সরিয়ে রাখার চেষ্টা শুরু হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, এফআইআরে নাম থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে আরও বড় তথ্য সামনে আসতে পারে।
পুলিশ সূত্রে খবর, রাজ্যে রাজনৈতিক (পালাবদল) (Political Change)-এর পর থেকেই সুবোধ অধিকারী এবং কমল অধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। গোটা ঘটনার সঙ্গে কোনও বড় আর্থিক চক্র (Financial Network)-এর যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
