আজ ২১শে জুন, বিশ্ব বাবা দিবস। জুনের এই তৃতীয় রবিবারে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সন্তান তাদের জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, শক্তির উৎস এবং পরম ভরসার মানুষটিকে পরম শ্রদ্ধায় ও ভালোবাসায় স্মরণ করছেন। ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে বাস্তব জীবনের প্রতিটি আঙিনায় প্রকাশ পাচ্ছে বাবার প্রতি সন্তানের চিরন্তন ও নিঃশর্ত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
একটি পরিবারকে বটবৃক্ষের মতো ছায়া দিতে এবং সন্তানদের স্বপ্নগুলোকে ডানা মেলতে একজন বাবা সারাজীবন নিঃশব্দে যে অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেন, তাকে সম্মান জানাতেই এই বিশেষ দিনটির উদযাপন। ১৯১০ সালের ১৯ জুন আমেরিকার ওয়াংশিংটনে প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই দিনটি পালন করা হয়েছিল। সময়ের বিবর্তনে আজ তা প্রতিটি বাঙালির ঘরে এবং বিশ্বজুড়ে এক অন্যতম আবেগঘন উৎসবে পরিণত হয়েছে।
আজকের এই বিশেষ দিনে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো মাধ্যমগুলোতে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন রূপ। অনেকেই বাবার সাথে কাটানো শৈশবের রঙিন মুহূর্ত, পুরনো ভিন্টেজ ফ্রেমের ছবি কিংবা নিজের কণ্ঠে রেকর্ড করা আবেগঘন গল্প ও কবিতা শেয়ার করছেন। শুধু দামী উপহারে নয়, বহু তরুণ-তরুণী আজ তাদের মনের অব্যাক্ত কথাগুলো প্রকাশ করছেন সৃজনশীল ভিডিও এবং লেখনীর মাধ্যমে, যা সামাজিক মাধ্যমে এক পজিটিভ ও আবেগময় আবহ তৈরি করেছে।
Father’s Day তে বাবাকে এই উপহারগুলো দিতে পারেন –
বাবার কাছে সন্তানের ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো উপহার হয় না, তবুও এই বিশেষ দিনে বাবার হাতে ছোট একটি উপহার তুলে দেওয়া তাকে এক অদ্ভুত আনন্দ দেয়। আজকের এই দিনে বাবাকে দেওয়ার মতো কিছু চমৎকার ও অর্থবহ উপহারের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
ফটো ফ্রেম: বাবার তরুণ বয়সের কোনো সাদা-কালো বা পুরনো ছবি সুন্দর একটি কাঠের ফ্রেমে বাঁধিয়ে উপহার দেওয়া যেতে পারে, যা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে সোনালী দিনগুলোতে।
পছন্দের বই বা ডায়েরী: বাবা যদি সাহিত্যপ্রেমী হন, তবে তার প্রিয় লেখকের কোনো বই কিংবা ডায়েরী লেখার অভ্যাস থাকলে একটি সুন্দর ভিন্টেজ ডায়েরী ও পেন সেট হতে পারে সেরা উপহার।
বাগান করার সামগ্রী: বাবা যদি গাছপালা ভালোবাসেন বা ঘর সাজাতে পছন্দ করেন, তবে তার বাগানের জন্য কিছু নতুন ফুলের চারা (যেমন: গোলাপ, বেলী বা ইনডোর প্ল্যান্ট) কিংবা সুন্দর টব উপহার দেওয়া যায়।
চশমার কেস বা ওয়ালেট: বাবার নিয়মিত ব্যবহারের চশমাটির জন্য একটি চমৎকার লেদার কেস অথবা একটি প্রিমিয়াম মানের ওয়ালেট দেওয়া যেতে পারে। আরামদায়ক পোশাক: এই গরমে পরার মতো হালকা রঙের একটি আরামদায়ক সুতির পাঞ্জাবি বা শার্ট উপহার হিসেবে অত্যন্ত উপযোগী।
বিশেষজ্ঞ এবং সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিনের প্রয়োজন হয় না। বছরের প্রতিটি দিনই বাবাদের ভালোবাসার দিন। তবে এই ব্যস্ত নাগরিক জীবনে অন্তত একটি দিন বাবার মুখে একটুখানি বাড়তি হাসি ফোটানো এবং তাকে ধন্যবাদ জানানোর এক দারুণ সুযোগ এনে দেয় এই দিনটি। পৃথিবীর সকল নিঃস্বার্থ বাবাদের ত্যাগ আর ভালোবাসার গল্পগুলো বেঁচে থাকুক প্রতিটি সন্তানের হৃদয়ে। সকল বাবাদের জানাই—শুভ বাবা দিবস!।
